"সেরা শেয়ার্ড হোস্টিং" লিখে খুঁজলে যে তালিকাগুলো পাবেন, তার প্রায় সবই অ্যাফিলিয়েট পেজ। এটা কোনো ষড়যন্ত্র নয় — নিছক অর্থনীতি: হোস্টিংয়ে প্রতি সাইনআপে ভালো কমিশন থাকে, তাই লেখার উদ্দেশ্য হয় তালিকা র‍্যাঙ্ক করানো, সিদ্ধান্তটা বুঝিয়ে দেওয়া নয়। ফলে একটা সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটা হয়ে যায় এমন একটা টেবিল দেখে, যা কেউ যাচাই করেনি।

এই লেখাটা অন্য রকম। এখানে র‍্যাঙ্ক করা তালিকা নেই। আছে সেই নয়টি জিনিস, যেগুলো আসলে ঠিক করে দেয় একটা শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজ ভালো কি না — গুরুত্বের ক্রমে সাজানো, আর প্রতিটির জন্য টাকা দেওয়ার আগে যাচাই করার একটা উপায়সহ। আমরা হোস্টিং বিক্রি করি, আর নিচে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত বাক্সে নিজেদের কথাও বলেছি — কিন্তু এখানকার পরীক্ষাগুলো যেকোনো হোস্টের ওপর খাটে, আমাদেরটাসহ, এবং আমাদেরটার ওপরেও চালানো উচিত।

শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে আসলে কী ভাগ হয়

শেয়ার্ড সার্ভার মানে একটাই ফিজিক্যাল মেশিন, যেখানে একসঙ্গে অনেক গ্রাহকের সাইট চলে। আপনি পান তার ডিস্কের একটা অংশ, আর ভাগ করে নেন CPU, মেমোরি, নেটওয়ার্ক কার্ড এবং — এই জায়গাটাতেই মানুষ ধাক্কা খায় — প্রসেস টেবিলডিস্ক I/O

শেষ দুটোর কারণেই কাগজে একই স্পেসিফিকেশনের দুটো প্যাকেজ বাস্তবে সম্পূর্ণ আলাদা আচরণ করে। "১০ জিবি স্টোরেজ, আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ" আপনাকে কিছুই বলে না — একসঙ্গে কয়টা PHP ওয়ার্কার চালাতে পারবেন, বা মেশিন ব্যস্ত থাকলে কতটুকু ডিস্ক থ্রুপুট পাবেন, সে ব্যাপারে নয়। অথচ এই সংখ্যাগুলোই ঠিক করে সপ্তাহের মাঝখানে রাত ৯টায় আপনার সাইট দ্রুত থাকবে কি না, আর এগুলো প্রায় কখনোই প্রাইসিং পেজে থাকে না।

তাই প্রথমেই মনে গেঁথে নিন: শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে আপনি স্টোরেজ কিনছেন না। কিনছেন একটা মেশিনের একটা অংশ, আর সেই অংশের শর্তগুলো।

২০২৬ সালে শেয়ার্ড হোস্টিং কার জন্য

ডেভেলপারদের মধ্যে শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের বদনাম আছে, আর তার বেশিরভাগটাই অন্যায্য। ২০২৬ সালে NVMe-তে চলা, প্রতি অ্যাকাউন্টে ঠিকমতো লিমিট বসানো একটা ভালো শেয়ার্ড প্যাকেজ স্বচ্ছন্দে চালাতে পারে:

  • একটি ব্যবসায়িক বা পরিচিতিমূলক সাইট
  • মাসে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ ভিজিট পাওয়া একটি WordPress ব্লগ
  • মাঝারি ক্যাটালগের ছোট একটি WooCommerce দোকান
  • পোর্টফোলিও, ল্যান্ডিং পেজ, ডকুমেন্টেশন সাইট
  • এমন যেকোনো সাইট, যার ট্র্যাফিক প্রতি সেকেন্ডের রিকোয়েস্টে নয়, ভিজিটে মাপা হয়

শেয়ার্ড ছাড়ার সময় হয়েছে যখন এর কোনো একটি সত্যি হয়:

  • সিস্টেম লেভেলে কিছু বসাতে হচ্ছে — কাস্টম PHP এক্সটেনশন, ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ার্কার, Redis, Node প্রসেস, কনটেইনার।
  • নিয়মিত প্যাকেজের CPU বা এন্ট্রি-প্রসেস সীমায় ঠেকছেন, আর সমাধান "প্লাগইন ঠিক করা" নয়, "আরও ক্ষমতা"।
  • কমপ্লায়েন্সের শর্তে সিঙ্গেল-টেন্যান্ট লাগবে।
  • ট্র্যাফিক এমনভাবে ওঠানামা করে, যা শেয়ার্ড মেশিনের ফেয়ার-ইউজ নীতি সহ্য করবে না।

এর দুটি বা তার বেশি মিলে গেলে সরাসরি শেয়ার্ড বনাম ভিপিএস বনাম ডেডিকেটেড পড়ুন — আর্কিটেকচারের সমস্যা বড় শেয়ার্ড প্যাকেজ কিনে সারবে না।

যে নয়টি জিনিস প্যাকেজের মান ঠিক করে

১. NVMe, শুধু "SSD" নয়

"SSD স্টোরেজ" কথাটার আলাদা কোনো মানে ২০১৯ সালের পর থেকে নেই, কারণ সবার কাছেই আছে। এখনকার আসল পার্থক্য NVMe বনাম SATA SSD, আর পার্থক্যটা সামান্য নয়: NVMe ড্রাইভ পুরোনো SATA বাসের বদলে PCIe দিয়ে সরাসরি CPU-র সঙ্গে কথা বলে, ফলে বাস্তবে র‍্যান্ডম-রিড থ্রুপুট কয়েক গুণ বেশি আর একসঙ্গে অনেক রিকোয়েস্টে লেটেন্সি অনেক কম।

শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে এটা অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শেয়ার্ড মেশিনে ডিস্কই সবচেয়ে বেশি ভাগাভাগি হওয়া জিনিস। একটা WordPress পেজ লোড মানে ছোট ছোট কয়েক ডজন রিড — PHP ফাইল, প্লাগইন ফাইল, ডেটাবেস পেজ। এবার মেশিনের প্রতিটি অ্যাকাউন্ট দিয়ে গুণ করুন।

যাচাই করবেন যেভাবে: সাপোর্টকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, "এই প্যাকেজ কি NVMe-তে, নাকি SATA SSD-তে?" যে হোস্ট NVMe চালায়, সে এক লাইনে উত্তর দেবে। যে হোস্ট বলে "আমরা হাই-পারফরম্যান্স এন্টারপ্রাইজ SSD ব্যবহার করি", সে আসলে বলছে SATA।

২. যে লিমিটগুলো কেউ বিজ্ঞাপনে লেখে না

এটাই সবচেয়ে কাজের প্রশ্ন, আর প্রায় কেউই করে না:

এই প্যাকেজে CPU, ফিজিক্যাল মেমোরি, এন্ট্রি প্রসেস আর I/O লিমিট কত?

ভালোভাবে চালানো শেয়ার্ড প্ল্যাটফর্মে এর উত্তর হয় কতগুলো সংখ্যা, কারণ হোস্ট CloudLinux চালায় — যা প্রতিটি অ্যাকাউন্টকে নিজস্ব হালকা ভার্চুয়াল পরিবেশে (LVE) আটকে রাখে, শক্ত সীমাসহ। এর উদ্দেশ্য আপনাকে আটকানো নয় — উদ্দেশ্য বাকি সবাইকে আটকানো। এটা না থাকলে একটা অ্যাকাউন্টের বেয়াড়া ইমপোর্ট স্ক্রিপ্ট গোটা মেশিনের সব সাইট ধীর করে দেয়, আর আপনার কিছুই করার থাকে না। একেই বলে "খারাপ প্রতিবেশী" সমস্যা, আর CloudLinux-ই তার আসল সমাধান — নিজে পরীক্ষা করে দেখতে না চাইলে আমাদের শেয়ার্ড হোস্টিং প্রতিটি অ্যাকাউন্টে CloudLinux লিমিট বসায় এবং NVMe-তে চলে।

যে হোস্ট নিজের লিমিট বলতে পারে না, তার হয় কোনো লিমিটই নেই — মানে আপনার পারফরম্যান্স অচেনা মানুষের দয়ায় — নয়তো আছে, কিন্তু সেগুলো কত কম তা আপনাকে জানাতে চায় না।

বিশেষ করে দুটো লিমিটের দিকে নজর দিন:

লিমিট

কী নিয়ন্ত্রণ করে

কম হলে যেমন লাগে

এন্ট্রি প্রসেস

একই সময়ে কয়টি PHP রিকোয়েস্ট চলতে পারে

কয়েকজন ভিজিটর একসঙ্গে এলেই "503" বা ঝুলে থাকা সাইট

I/O ও IOPS

ডিস্ক থ্রুপুট ও প্রতি সেকেন্ডে অপারেশন

অ্যাডমিন ধীর, ইমপোর্ট ধীর, ব্যাকআপ ধীর — অথচ হোমপেজ দ্রুত

CPU (%)

একটি কোরের কতটুকু অংশ

প্লাগইন সত্যিকারের কাজ শুরু না করা পর্যন্ত সব ঠিক, তারপর সব থেমে যায়

ফিজিক্যাল মেমোরি

প্রতি অ্যাকাউন্টে RAM

ছবি রিসাইজ বা বড় ইমপোর্টে সাদা স্ক্রিন

এন্ট্রি প্রসেসেই মানুষ সবচেয়ে বেশি অবাক হয়। "আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ" লেখা যে প্যাকেজে ১০টি এন্ট্রি প্রসেস, সেটি কুড়ি-পঁচিশজন একসঙ্গে এলেই বসে যাবে — কারণ প্রত্যেকে রিকোয়েস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটা করে PHP ওয়ার্কার ধরে রাখে।

৩. সার্ভারটি আসলে কোথায়

লেটেন্সি দূরত্বের সমানুপাতিক, আর প্রথম রাউন্ড ট্রিপ কোনো ক্যাশিং দিয়েই বাদ দেওয়া যায় না। আপনার ভিজিটর যদি বাংলাদেশে থাকেন আর সার্ভার Dallas-এ, তাহলে কিছু শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি রিকোয়েস্ট পৃথিবীর এপাশ-ওপাশ ঘুরে আসে।

বাংলাদেশি অডিয়েন্সের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে সস্তা গতিবৃদ্ধি, আর এ কারণেই BDIX গুরুত্বপূর্ণ। BDIX হলো Bangladesh Internet Exchange — যেখানে দেশের ISP-গুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত সার্ভার লোকাল ISP-র গ্রাহকের কাছে পৌঁছায় দেশের বাইরে না গিয়েই। ঢাকার একজন ভিজিটরের জন্য BDIX-সংযুক্ত সার্ভার আর আমেরিকান সার্ভারের পার্থক্য মোটামুটি ৩০ মিলিসেকেন্ড আর ৩০০ মিলিসেকেন্ডের পার্থক্য।

ট্রেড-অফটা বাস্তব, তাই সরাসরি বলা ভালো:

  • অডিয়েন্স মূলত বাংলাদেশে → ঢাকায় BDIX-সংযুক্ত সার্ভার নিঃসন্দেহে জেতে।
  • অডিয়েন্স মূলত বিদেশে → তাদের কাছাকাছি সার্ভার জেতে, BDIX-এর কোনো ভূমিকা নেই।
  • দুই-ই → যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে অরিজিন রাখুন আর বাকিদের জন্য সামনে Cloudflare বসান

ঠিক এই কারণেই আমরা ঢাকা, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে সার্ভার চালাই, আর আমাদেরগুলো ঢাকায় BDIX-সংযুক্ত সার্ভারে চলে — বাংলাদেশি ভিজিটরের জন্য এটাই ৩০ মিলিসেকেন্ড আর ৩০০ মিলিসেকেন্ডের পার্থক্য।

৪. TTFB — প্রতিশ্রুতি নয়, মেপে দেখা

Time to First Byte মানে সার্ভার উত্তর দেওয়া শুরু করতে কত সময় নেয়। "এই হোস্ট কি দ্রুত" — এই প্রশ্নের সবচেয়ে পরিষ্কার একক উত্তর এটাই, কারণ পুরো পেজ-লোড স্কোরের মতো নয়, এটা প্রায় পুরোটাই হোস্টের দায়, আপনার থিমের নয়।

২০২৬ সালের মোটামুটি লক্ষ্যমাত্রা:

  • ২০০ মিলিসেকেন্ডের নিচে — ভালো
  • ২০০–৫০০ মিলিসেকেন্ড — চলনসই, উন্নতির সুযোগ আছে
  • ৮০০ মিলিসেকেন্ডের ওপরে — হোস্ট বা সাইট, কেউ একজন ভুল করছে

কেনার আগেই যেকোনো হোস্ট মেপে দেখা যায় — তারা হোস্ট করে এমন একটা সাইট দিয়ে। সাপোর্টের কাছে একই প্যাকেজ ও একই অঞ্চলের একটা গ্রাহক সাইট চেয়ে নিন, তারপর:

bash
curl -o /dev/null -s -w "dns: %{time_namelookup}s\nconnect: %{time_connect}s\nttfb: %{time_starttransfer}s\ntotal: %{time_total}s\n" https://example.com/

পাঁচবার চালিয়ে মধ্যমান নিন — প্রথম রিকোয়েস্টে প্রায়ই ঠান্ডা ক্যাশ আর DNS লুকআপের দাম যোগ হয়। আপনার অডিয়েন্সের ব্যস্ত সময়েও আবার চালান, কারণ রাত ৯টার শেয়ার্ড মেশিন আর রাত ৪টার শেয়ার্ড মেশিন এক জিনিস নয়। সন্ধ্যায় যার TTFB তিন গুণ হয়ে যায়, সেই সার্ভার ওভারসোল্ড।

৫. আপটাইম, আর SLA-র আসল দাম

সবাই ৯৯.৯% লেখে। এই সংখ্যাটা নিয়ে দুটো কথা।

প্রথমত, এটা কতটা ছাড় দেয়: ৯৯.৯% মানে মাসে প্রায় ৪৩ মিনিট ডাউনটাইম। ৯৯.৯৯% মানে প্রায় ৪ মিনিট। এই দুই সংখ্যার ব্যবধান বিশাল, অথচ বিজ্ঞাপনে ব্যবধান একটি অক্ষরের।

দ্বিতীয়ত, এর পেছনে কিছু আছে কি না। প্রতিকারহীন আপটাইম "গ্যারান্টি" আসলে একটি বাক্য, গ্যারান্টি নয়। জিজ্ঞেস করুন, লক্ষ্যমাত্রা না মিললে কী হয় — সত্যিকারের SLA-তে ক্রেডিট দেওয়া হয়। আর হোস্টের নিজের স্ট্যাটাস পেজকে প্রমাণ ধরবেন না; প্রথম দিন থেকেই স্বাধীন একটি মনিটরে সাইট রাখুন, যাতে এক বছর পর রিনিউ করার সময় নিজের ডেটা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

৬. যে ব্যাকআপ সত্যিই ফেরানো যায়

প্রশ্নটা "আপনারা কি ব্যাকআপ নেন" নয়। সবাই হ্যাঁ বলে। আসল প্রশ্নগুলো:

  1. কত ঘন ঘন? দৈনিক হলো সর্বনিম্ন। সাপ্তাহিক মানে এক সপ্তাহ হারানোর ঝুঁকি।
  2. কতদিন রাখা হয়? প্রতি রাতে যেটা মুছে নতুন করে লেখা হয়, সেটা সোমবারের ক্ষতি বৃহস্পতিবারে ধরা পড়লে কোনো কাজে আসে না।
  3. কন্ট্রোল প্যানেল থেকে টিকিট না কেটে নিজে ফেরাতে পারবেন? রাত ২টায় এই প্রশ্নটাই আসল।
  4. রিস্টোর কি ফ্রি? কিছু হোস্ট এর জন্য টাকা নেয়। দরকার পড়ার আগেই জেনে নিন।
  5. ব্যাকআপ কি অন্য মেশিনে রাখা? যে সার্ভারের ব্যাকআপ সেই সার্ভারেই রাখা থাকলে সেটা ব্যাকআপ নয়।

আর উত্তর যা-ই হোক: নিজের একটা কপিও রাখুন। হোস্টের ব্যাকআপ আপনাকে হোস্টের ব্যর্থতা থেকে বাঁচায়। পনেরো দিন কারও চোখে না পড়া একটা খারাপ ডিপ্লয় থেকে বাঁচায় না, অ্যাকাউন্ট হারানো থেকেও নয়।

৭. কন্ট্রোল প্যানেল, আর চলে যেতে চাইলে কী হয়

cPanel কারণ ছাড়াই ডিফল্ট হয়নি — বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ডেভেলপার এটাই চেনেন, প্রায় প্রতিটি টিউটোরিয়াল এটাই ধরে নেয়, আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রায় প্রতিটি হোস্ট এটা ইমপোর্ট করতে পারে। cPanel থেকে cPanel মাইগ্রেশন প্রায় সমাধান হয়ে যাওয়া সমস্যা। কোনো হোস্টের নিজস্ব প্যানেল থেকে বেরোনো মানে হাতে করে আবার বানানো।

তাই নিজস্ব প্যানেল মানেই খারাপ নয়, কিন্তু সেটা একটা সুইচিং কস্ট, আর সেভাবেই হিসাব করা উচিত।

প্যানেলের ভেতরে যা দেখবেন:

  • প্রতি ডোমেইনে PHP ভার্সন সিলেক্টর। দরকার হবেই — সামনে এগোতেও, আর প্লাগইন ভাঙলে পিছিয়ে আসতেও।
  • Softaculous বা সমমানের কিছু, যদি অনেক অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করেন।
  • সত্যিকারের লগ অ্যাক্সেস। নিজের এরর লগ দেখতে না পারলে কিছুই ডিবাগ করতে পারবেন না, আর প্রতিটি সমস্যা সাপোর্ট টিকিটে পরিণত হবে।
  • নিজে নিজে রিনিউ হওয়া ফ্রি এসএসএল — নিচে দেখুন।

৮. এসএসএল: ফ্রি-ই এখন সঠিক উত্তর

সাধারণ সার্টিফিকেটের জন্য টাকা দেওয়ার আর কোনো ভালো কারণ নেই। Let's Encrypt ফ্রি, স্বয়ংক্রিয়, আর প্রতিটি ব্রাউজারে বিশ্বাসযোগ্য — আর যেকোনো যোগ্য হোস্ট বিনা খরচে সেটি ইস্যু ও রিনিউ করে দেয়। আমাদের প্রতিটি হোস্টিং প্যাকেজের সঙ্গেই ফ্রি সার্টিফিকেট আসে।

সার্টিফিকেটের জন্য টাকা দেবেন ঠিক দুটি ক্ষেত্রে: যখন যেকোনো সাবডোমেইন ঢাকতে ওয়াইল্ডকার্ড লাগবে, অথবা যখন ব্যাংক, পেমেন্ট প্রসেসর বা প্রকিউরমেন্ট বিভাগের শর্তে অর্গানাইজেশন ভ্যালিডেশন লাগবে। এর কোনোটাই এনক্রিপশনের শক্তি নিয়ে নয় — এনক্রিপশন হুবহু এক। কোনটা আপনার দরকার বুঝতে না পারলে ফ্রি বনাম পেইড এসএসএল দেখুন।

যা যাচাই করবেন: রিনিউয়াল স্বয়ংক্রিয় কি না, আর সেটি example.comwww.example.com দুটোই ঢাকে কি না। চুপচাপ মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া সার্টিফিকেট মানে হোমপেজে ব্রাউজারের নিরাপত্তা সতর্কবার্তা।

৯. সাপোর্ট, যে সত্যিই উত্তর দেয়

কেনার আগে সবচেয়ে কঠিন যাচাই, আর পরে সবচেয়ে বেশি যেটার দরকার হয়।

যে পরীক্ষাটা কাজ করে: একটা সত্যিকারের টেকনিক্যাল প্রশ্ন নিয়ে প্রি-সেলস টিকিট খুলুন। "আপনাদের দাম কত" নয় — জিজ্ঞেস করুন "এই প্যাকেজে এন্ট্রি প্রসেস লিমিট কত, আর আপনারা কি CloudLinux চালান?" তারপর দুটো জিনিস মাপুন: উত্তর আসতে কত সময় লাগল, আর সেটা প্রশ্নের উত্তর দিল নাকি বিজ্ঞাপনের কথাই আবার বলল।

ওই একটিমাত্র কথোপকথন আপনার পরের তিন বছর সম্পর্কে যেকোনো রিভিউ সাইটের চেয়ে ভালো ধারণা দেবে। সেই সঙ্গে দেখুন আপনার টাইমজোনে "২৪/৭" মানে কী, আর বাংলায় কথা বলা জরুরি হলে সেটা সম্ভব কি না।

রিনিউয়াল প্রাইসের ফাঁদ

এটাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল, আর পুরোপুরি এড়ানো যায়।

বিজ্ঞাপনের দামটা পরিচিতিমূলক — প্রথম মেয়াদে প্রায়ই ৬০–৭৫% ছাড়। রিনিউয়ালের দামটাই আসল দাম, আর সেটা প্রায়ই যে সংখ্যা দেখে আপনি কিনেছিলেন তার তিন থেকে পাঁচ গুণ। খুব কম মাসিক দামে বিজ্ঞাপন দেওয়া প্যাকেজ কয়েক গুণ দামে রিনিউ হতে পারে, আর আপনি সেটা জানবেন এগারো মাস পরে।

কেনার আগে এটা করুন: রিনিউয়াল প্রাইসটা খুঁজে বের করুন। সাইটে কোথাও না কোথাও আছে, সাধারণত চেকআউটে বা শর্তাবলিতে। তারপর সেটাকে তিন বছর দিয়ে গুণ করে ওই সংখ্যাটার সঙ্গে বিকল্পগুলো মিলিয়ে দেখুন। একঘেয়ে, সৎ, অপরিবর্তিত দামের হোস্ট তিন বছরের হিসাবে চমকপ্রদ প্রথম-বছরের অফারকে প্রায়ই হারিয়ে দেয়।

আরও দুটি সংশ্লিষ্ট ফাঁদ:

  • কম দাম পেতে দীর্ঘ মেয়াদে আটকে যাওয়া। পরিচিতিমূলক দামে তিন বছরের অগ্রিম সত্যিই সস্তা — কিন্তু কেবল তখনই, যদি দ্বিতীয় বছরেও হোস্টটি ভালো থাকে, যা আপনি এখনো জানেন না।
  • রিনিউয়ালে সুবিধা আলাদা হয়ে যাওয়া। ফ্রি ডোমেইন, ফ্রি এসএসএল, ফ্রি মাইগ্রেশন আর ব্যাকআপ কখনো কখনো কেবল প্রথম মেয়াদেই ফ্রি।

"আনলিমিটেড" — কথাটার মানে কী

আনলিমিটেড স্টোরেজ ও আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ সত্যিকারের অফার, আর তার সত্যিকারের একটা মানে আছে: আপনার হিসাব রাখা হবে না, কিন্তু আপনি ফেয়ার-ইউজ নীতির অধীনে থাকবেন — আর আসল সীমাগুলো দুই নম্বর পয়েন্টেরগুলোই: inode, এন্ট্রি প্রসেস, CPU, I/O।

যে সংখ্যাটা জিজ্ঞেস করতে হবে সেটা inode লিমিট: ফাইলের সংখ্যা, আকার নয়। কয়েকটা প্লাগইনসহ একটা WordPress ইনস্টল মানে হাজার হাজার ফাইল, আর বছরের পর বছরের ইমেইল অ্যাকাউন্ট মানে প্রতি মেসেজে একটা করে ফাইল। ডিস্ক ভরার অনেক আগেই সাইট inode সীমায় পৌঁছে যায়, আর লক্ষণটা অদ্ভুত: ফাইল লিখতে পারছেন না, অথচ প্যানেল বলছে প্রচুর জায়গা খালি।

"আনলিমিটেড" অসৎ নয়। শুধু আপনি যে এককে ভেবেছিলেন, মাপা হয় অন্য এককে।

মাইগ্রেশন: কোনটা ফ্রি হওয়া উচিত

চালু সাইট সরাতে আপনার কোনো খরচ হওয়ার কথা নয়। প্রায় প্রতিটি হোস্টই ফ্রি মাইগ্রেশন দেয়, আর যারা দেয় না তারা আপনাকে কিছু একটা জানাচ্ছে।

আগে যা নিশ্চিত করবেন:

  • কয়টি সাইট এর আওতায়? অনেক সময় একটি, বাকিগুলোর জন্য টাকা লাগে।
  • ডাউনটাইম উইন্ডো আছে কি, আর DNS পরিবর্তন কি তারাই করবে?
  • ইমেইলও কি সরাবে? ইমেইলই সাধারণত কঠিন অংশ।
  • পুরোনো সাইট কি চালু থাকবে নতুনটা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত? থাকা উচিত — একটা অস্থায়ী URL-এ পরীক্ষা করে তবেই DNS বদলানোর সুযোগ পাওয়া উচিত।

১২ পয়েন্টের চেকলিস্ট

টাকা দেওয়ার আগে যেকোনো হোস্টের লাইভ চ্যাটে এটা নিয়ে যান।

  1. এই প্যাকেজ কি NVMe-তে, নাকি SATA SSD-তে?
  2. আপনারা কি CloudLinux চালান? এই প্যাকেজে CPU, মেমোরি, এন্ট্রি-প্রসেস ও I/O লিমিট কত?
  3. inode লিমিট কত?
  4. সার্ভার কোথায়, আর সেটি কি BDIX-সংযুক্ত?
  5. ঢাকা থেকে বাস্তবে TTFB কত — আর এই প্যাকেজের কোনো গ্রাহক সাইট পরীক্ষা করে দেখতে পারি?
  6. ৯৯.৯% আপটাইমের পেছনে কি ক্রেডিট আছে? গত ত্রৈমাসিকের প্রকৃত হিসাব কত ছিল?
  7. ব্যাকআপ কত ঘন ঘন, কতদিন রাখা হয়, কোথায় রাখা হয়, আর নিজে বিনা খরচে ফেরাতে পারব?
  8. এটা কি cPanel? PHP ভার্সন সিলেক্টর আছে?
  9. এসএসএল কি ফ্রি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিনিউ হয়, www-সহ?
  10. রিনিউয়াল প্রাইস কত, লিখিতভাবে?
  11. মাইগ্রেশন কি ফ্রি, কয়টি সাইটের জন্য, আর DNS পরিবর্তন কে করবে?
  12. রিফান্ড উইন্ডো কত দিনের, আর সেটি কি ডোমেইনও ঢাকে?

কোনো হোস্ট যদি এই বারোটির উত্তরই এড়িয়ে না গিয়ে দেয়, তাহলে আপনি একটা ভালো হোস্ট পেয়েছেন — সে যেই হোক।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

২০২৬ সালে WordPress-এর জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং কি যথেষ্ট? বেশিরভাগ WordPress সাইটের জন্য হ্যাঁ। NVMe-তে চলা, যুক্তিসঙ্গত লিমিটসহ ভালোভাবে কনফিগার করা শেয়ার্ড প্যাকেজ মাসে কয়েক লাখ ভিজিট পর্যন্ত WordPress সাইট নির্বিঘ্নে চালাবে। ধীর WordPress সাইটের সাধারণ কারণ হোস্টিং টিয়ার নয় — অপ্টিমাইজ না করা থিম, অতিরিক্ত প্লাগইন আর ক্যাশিংয়ের অভাব। কোন সমাধান কতটা কাজে দেয়, তা ক্রম অনুযায়ী আছে শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে WordPress দ্রুত করার গাইডে

বাংলাদেশে শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের দাম কেমন হওয়া উচিত? এতটুকু, যাতে হোস্ট ভালো হার্ডওয়্যার আর ভালো লোকবল রাখতে পারে। বাজারের সবচেয়ে সস্তা প্যাকেজগুলো সস্তা কারণ মেশিনগুলো ওভারসোল্ড, আর তার দামটা ইনভয়েসে নয় — ডাউনটাইম আর ধীর সন্ধ্যায় দিতে হয়। প্রথম বছরের বিজ্ঞাপিত দাম নয়, রিনিউয়ালসহ তিন বছরের মোট খরচ মিলিয়ে দেখুন। আমাদের নিজেদের প্যাকেজগুলো আছে শেয়ার্ড হোস্টিং পেজে

BDIX হোস্টিং কী, আর আমার কি দরকার? BDIX হলো Bangladesh Internet Exchange, যেখানে দেশের ISP-গুলো যুক্ত হয়। BDIX-সংযুক্ত সার্ভার বাংলাদেশি ভিজিটরদের সেবা দেয় দেশের বাইরে ট্র্যাফিক না পাঠিয়েই, যা সাধারণত লেটেন্সি এক ধাপ কমিয়ে দেয়। অডিয়েন্স বাংলাদেশে হলে এই তালিকার সবচেয়ে মূল্যবান ফিচার এটিই। অডিয়েন্স বিদেশে হলে এতে আপনার কিছুই আসে যায় না।

ভুল বেছে ফেললে পরে সাইট সরাতে পারব? পারবেন, আর এ কারণেই কন্ট্রোল প্যানেলের প্রশ্নটা জরুরি। cPanel থেকে cPanel সরানো রুটিন কাজ, আর বেশিরভাগ হোস্ট বিনা খরচে করে দেবে। DNS পরিবর্তনের জন্য কয়েক ঘণ্টা আর কম ট্র্যাফিকের একটা সময় রাখুন, আর পুরোনো অ্যাকাউন্ট এক সপ্তাহ চালু রাখুন।

"আনলিমিটেড" হোস্টিং কি মিথ্যা? না, তবে সেটা গিগাবাইটে নয়, inode, CPU আর প্রসেসে মাপা হয়। ওই সংখ্যাগুলো চেয়ে নিন। আগে থেকেই সৎভাবে লিমিট প্রকাশ করা প্যাকেজ সেই "আনলিমিটেড" প্যাকেজের চেয়ে ভালো, যার ফেয়ার-ইউজ নীতি আপনি নিয়ম ভেঙে তবেই জানতে পারবেন।

এসএসএল সার্টিফিকেটের জন্য কি টাকা দিতে হবে? এনক্রিপশনের জন্য নয়। Let's Encrypt ফ্রি এবং সমান নিরাপদ। টাকা দেবেন কেবল ওয়াইল্ডকার্ড সার্টিফিকেটের জন্য, অথবা তৃতীয় পক্ষ অর্গানাইজেশন ভ্যালিডেশন চাইলে।


সংক্ষেপে বললে: র‍্যাঙ্ক করা তালিকাগুলো বাদ দিন, বারোটা প্রশ্ন করুন, আর রিনিউয়াল প্রাইসের দিকে নজর রাখুন। যে হোস্ট সোজাসুজি উত্তর দেয়, সাধারণত সেটিই রাখার মতো।